
লাকসামে চাঁদার দাবিতে বাড়ির কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে জখম
লাকসাম প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসামে চাঁদার দাবিতে হাবিব উল্লাহ (৪৩) নামে এক বাড়ির কেয়ারটেকারকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় আহত হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে ৩ জনকে অভিযুক্ত করে লাকসাম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আহত হাবিব উল্লাহ কক্সবাজার সদর থানার দক্ষিণ হাজী পাড়ার মোঃ নবী মিয়ার ছেলে ও লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সিংজোড় গ্ৰামের আলী আশরাফের বাড়ির কেয়ারটেকার।
আহত হাবিব উল্লাহ লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
অভিযুক্ত কবির হোসেন একই উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সিংজোড় গ্ৰামের আলী হোসেনের ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ আগষ্ট শুক্রবার দুপুরে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের সিংজোড় গ্ৰামে।
আহত হাবিব উল্লাহ জানায়, ওইদিন দুপুরে অভিযুক্ত কবির হোসেন একই বাড়ির আলী আশরাফের বাড়িতে প্রবেশ করে গাছের ডাল কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় কেয়ারটেকার হাবিব উল্লাহ বাঁধা দেয়া। এনিয়ে আহত হাবিব ও অভিযুক্ত কবিরের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।
আহত হাবিব উল্লাহ আরো জানায়, অভিযুক্ত কবির কেয়ারটেকার হাবিবের নিকট ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। গাছের ডাল কাটতে বাঁধা ও চাঁদার ২০ হাজার টাকা দিতে অস্বীকার করায় অভিযুক্ত কবির হোসেন, স্ত্রী পারভিন বেগম ও মেয়ে রাখিয়া আক্তার তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। কবির হোসেনের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় কুপিয়ে জখম করে। তার মাথায় জখমের কারণে সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়।
আহত হাবিব উল্লাহ কে স্থানীয়রা উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় আহত হাবিব উল্লাহ বাদী হয়ে লাকসাম থানায় অভিযুক্ত কবির হোসেন, তার স্ত্রী পারভিন বেগম এবং মেয়ে রাখিয়া আক্তার কে অভিযুক্ত করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
বাড়ির মালিক আলী আশরাফের ছেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, হাবিব উল্লাহ আমাদের বাড়িতে দীর্ঘ ১০/১২ বছর থাকে এবং বাড়ির কেয়ারটেকারের দ্বায়িত্ব পালন করে আসছে। সে অনেক ভালো লোক এবং বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার।
অভিযুক্ত কবির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন বিগত দিনেও একাধিক বার আমার কেয়ারটেকারের উপর হামলা চালিয়েছে। আমরা সমাজের লোকদের জানিয়েছি।
কবির গতকাল শুক্রবার দুপুরে আমার কেয়ারটেকারের নিকট চাঁদা দাবি করে এবং গাছের ডাল কেটে নিয়ে যাচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ও গাছের ডাল কাটতে বাঁধা দেয়ায় তাকে কবির ও তার স্ত্রী এবং মেয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে।
অভিযুক্ত কবির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি একেবারে মিথ্যা। তবে ছাগলের জন্য গাছের পাতা কাটতে বাঁধা দেয়ায় উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আমার হাতে থাকা ডাল দিয়ে আঘাত করলে তার মাথা ফেটে যায়।