
দেবিদ্বারে গৃহবধূকে জবাই
ও টুকরো করে হত্যা !
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, ফরিদা বেগম প্রতিদিনের মতো সকালেও হাঁটতে বের হতেন। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের রোগী হওয়ায় স্বজনেরা প্রথমে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেন এবং মাইকিং করান। পরে বিকেলে নিহতের বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে গিয়ে পলিথিনের কয়েকটি মোড়ানো প্যাকেটে মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে চাঞ্চল্যকর ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা বেগম (৫৫) নামের এক প্রবীণ গৃহবধূকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে ভরে বস্তাবন্দী করে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে পুলিশ নিহতের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে স্থানীয়রা নিহতের বাসার ভাড়াটে লাইলী বেগমকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন।
নিহত ফরিদা বেগম ওই বাড়ির মালিক মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। স্বামী মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। তাঁদের দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম ওই বাড়িতে একা বসবাস করতেন এবং বাড়ির একটি অংশ লাইলী বেগমের পরিবারের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন।
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে যা জানা যায়:
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, ফরিদা বেগম প্রতিদিনের মতো সকালেও হাঁটতে বের হতেন। কিন্তু শনিবার সকাল থেকে তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের রোগী হওয়ায় স্বজনেরা প্রথমে বিভিন্ন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নেন এবং মাইকিং করান। পরে বিকেলে নিহতের বোনের ছেলে মামুন বাসার পেছনে গিয়ে পলিথিনের কয়েকটি মোড়ানো প্যাকেটে মরদেহের অংশবিশেষ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ভাড়াটে লাইলী বেগমকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও জনতা বিক্ষোভ করেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের বক্তব্য:
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পলিথিনে মোড়ানো লাশের বেশ কয়েকটি প্যাকেট উদ্ধার করে। তবে নিহতের মাথা ও পা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক লাইলী বেগম হত্যার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে তাঁর স্বামী আবুল কালাম আজাদ, রবিউল, সোহেল ও ইমনসহ আরও কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেপ্তারে ও মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
