দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন

অর্থনীতি কুষ্টিয়া খুলনা জাতীয় রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

দৌলতপুরে পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত

এলাকা জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন

 

 হৃদয় রায়হান, কুষ্টিয়াঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, চার ফসলি জমি, ফলের বাগান ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভাঙনকবলিত কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকা পরিদর্শন করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পরিদর্শনকালে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, নদীভাঙনে বহু পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও ফলের বাগান বিলীন হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত থেকে আমদানি করা ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জাতীয় সঞ্চালন লাইনও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, জুনিয়াদহ বাজার, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। নদীভাঙনের কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

 

এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে।

বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *