
বিদেশে বিনিয়োগের প্রলোভনে ৪১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে লালমাইয়ের কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সুইজারল্যান্ডে হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে কুমিল্লার এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৪১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে লালমাই উপজেলার অশ্বদিয়া গ্রামের প্রবাসী কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের পর চলতি মাসের ১৫ জুলাই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কামাল আহমেদ লালমাই উপজেলার অশ্বদিয়া গ্রামের ছোয়াব আহমেদের ছেলে।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে সুইজারল্যান্ডের লুজানে বসবাস করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। দেশে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্থাবর সম্পত্তিও রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিনি পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন বলেও দাবি করেছেন বাদীপক্ষ।
মামলার বাদী কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার পেরিয়া গ্রামের প্রবাসী আবু বাহার দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালে সুইজারল্যান্ডের লুজানে একটি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় অংশীদার করার আশ্বাস দিয়ে কামাল আহমেদ তার সঙ্গে স্ট্যাম্পে একটি চুক্তি করেন।
পরে একই বছরের ৩০ জুলাই দেশে এসে লাকসাম পৌর শহরের বাইপাস এলাকার ভুঁইয়া টাওয়ারে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ওই চুক্তিপত্র বুঝিয়ে দিয়ে আবু বাহারের কাছ থেকে নগদ ৪১ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।
বাদীর দাবি, কয়েক মাস পর তিনি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে জানতে পারেন, যে হোটেল-রেস্টুরেন্টে তাকে অংশীদার করার কথা বলা হয়ে ছিল, সেটি আগেই পাকিস্তানি এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এরপর টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত কামাল আহমেদ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। এমনকি টাকা দাবি করায় তাকে ও তার সহযোগীরা ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আবু বাহার বলেন, “ব্যবসায় অংশীদার করার প্রতিশ্রুতিতে স্ট্যাম্পে চুক্তি করে আমার কাছ থেকে ৪১ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে জানতে পারি, ওই ব্যবসা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে কামাল আহমেদ, তার স্ত্রী ফাতেমা আহমেদসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল হলে আদালত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
তবে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল আহমেদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, “আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নথি এখনও থানায় পৌঁছেনি।
পরোয়ানা হাতে পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের কার্যক্রমও চালানো হবে।”