ঢাকার ২ সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করতে বলল জামায়াত

আইন আদালত জাতীয় ঢাকা রাজনীতি সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

ঢাকার ২ সিটি দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন

শুরু করতে বলল জামায়াত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির ও ডিএনসিসি মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।

তিনি বলেন, ঢাকায় সুন্দর নির্বাচন হলে সারাদেশে তার প্রভাব পড়বে। এজন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম সহ যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোর নির্বাচন আগে করতে হবে।

পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করতে হবে। তা না হলে বুঝতে হবে সরকার জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছে।

রোববার রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় মহানগর উত্তর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সেলিম উদ্দিন বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করা হবে। এ ধরণের কোনো চিন্তা যেন কেউ না করে।

রাজধানী ঢাকায় চরম নাগরিক দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, যা নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার প্রমাণ।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক, সন্ত্রাসে মানুষ অতিষ্ঠ। সরকারের নিয়োগ দেয়া প্রশাসকরা এসব সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ। তারা নাগরিক সেবাবে পুরানো ধাচেই চালাচ্ছে। অথচ আমাদেরকে তিন মাস সময় দিলেই ঢাকার চিত্র পাল্টে যেতে পারে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় নাগরিক সেবামূলক নানা কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, আমরা নাগরিক সেবা, স্বাস্থ্য-শিক্ষা সহায়তা, কর্মসংস্থান, পরিচ্ছন্নতা, দরিদ্রদের সহায়তা, মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন সহ বহু কর্মসূচি পরিচালনা করছি। যদিও সেগুলোর তেমন কোন প্রচার নেই।

জলাবদ্ধতা ও ময়লা সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাঠে নেমে আন্দোলনের ঘোষণা দেন সেলিম উদ্দিন। পাশাপাশি নাগরিক সেবা উন্নত করা এবং দালালচক্র নির্মূলেরও দাবি জানান তিনি।

জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার জুলাই বিপ্লবের প্রধান স্টেকহোল্ডার না হয়েও তারা প্রধান বেনিফিশিয়ারি। অথচ তারা এখন জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তালবাহানা করছে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং ন্যায়-বিচারের চেতনাও আছে। তাই জুলাইকে বাদ দিয়ে সরকারে থাকা বা রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে।

তিনি সদ্য পদত্যাগকারী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ব্যাংকের শেয়ার জালিয়ারির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আমরা ফ্যাসিবাদের এই দোসরের আগেই সরাতে বলে ছিলাম। কিন্তু সরকার তাকে সরায়নি। এখন যেভাবেই হোক তার পদ্যাগের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। তবে আমাদের দাবি হলো-তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেন বাইরে যাওয়ার সুযোগ না দেয়া হয়। প্রয়োজনে সব হাসপাতাল মিলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।

ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের সঞ্চালনায় মতবিনিময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন, উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা, সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দীন মোল্লা, ডা.ফখরুদ্দিন মানিক, ইয়াসিন আরাফাত, কর্মপরিষদ সদস্য হেমায়েত হোসেন ও জামাল হোসেন প্রমুখ।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *