ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অর্থনীতি চট্টগ্রাম জাতীয় সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে

রাঙ্গামাটির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

টানা চার দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে দিঘীনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম উপজেলা বাঘাইছড়ি।

গত সোমবার (৬ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন নদ-নালা ও পাহাড়ি ছড়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল থেকে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার পরিধি আরও বেড়েছে।

 

রাঙ্গামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার বাঘাইছড়ি পৌরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডের প্রায় ৩০টি গ্রামের বসতঘর ফসলি জমি বন্যার পানিতে ডুবে আছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। অনেকেই গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

এছাড়া বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজার ও কিছু গ্রাম পাহাড়ি ঢলের পানিতে ডুবে গেছে।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ির মহালছড়ি সড়ক ডুবে থাকায় রাঙ্গামাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতির অবনতির সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রেও বাড়ছে দুর্গত মানুষের সংখ্যা।

 

এদিকে দিঘীনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের ৩ মাইল নামক স্থানে সড়ক ধসে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে দেশের বৃহত্তম উপজেলা বাঘাইছড়ি। সড়কের দিঘীনালা অংশে পানি থাকায় ধসে যাওয়া সড়ক মেরামতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা জানান, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় পানি ওঠায় স্পটে যেতে পারিনি। তবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। সেফ্টি গ্রেড ওয়াল দেওয়া হলে স্থায়ী একটা সমাধান হতে পারে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজান জানান, বাঘাইছড়িতে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। পৌরসভায় তিনটিসহ উপজেলায় মোট ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে প্রায় দুই হাজার ৫১৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন।

 

বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় প্রকাশিত জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যমতে, জেলায় মোট ১৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে মোট চার হাজার ৩৯২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চলমান ভারী বর্ষণে জেলার ছোট-বড় মোট ১০৪টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে বিলাইছড়ি উপজেলার ৩৭টি স্থানে, কাউখালী উপজেলার ৩০টি, কাপ্তাই উপজেলার ১৫, সদর উপজেলার ১৩টি, লংগদু উপজেলার ৪টি, বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩টি ও নানিয়ারচর উপজেলার দুটি স্থান রয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত জনসাধারণকে প্রতিদিন তিনবেলা খাবারসহ সুপেয় পানি প্রদান করা হচ্ছে। দূর্যোগ কবলিত পানিবন্দি পরিবারগুলোতে ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়াও পানি বন্দি পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসতে কাজ করছে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ দল।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *