
গাজীপুরে ভুয়া চিকিৎসায় গর্ভের সন্তান নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের
মোঃ জয়, গাজীপুর:
গাজীপুর মহানগরীর সদর থানা এলাকায় এক কথিত চিকিৎসকের ভুল ও ভুয়া চিকিৎসায় এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর মহানগরের সদর থানাধীন দক্ষিণ সালনা এলাকার বাসিন্দা মোঃ বিল্লাল হোসেন (৫২) তার ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রিনা আক্তারকে (৪২) শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ১৪ মে ২০২৬ তারিখে শিমুলতলী ছায়াবাগ এলাকার ‘কিউর হোমিওপ্যাথিক সেন্টার’-এ নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত তথাকথিত ডাক্তার মোঃ হাসানুল করিম রাজু (৪৫) (রেজিস্ট্রেশন নং- ২১৮৭৮) কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা ছাড়াই একটি সাধারণ মেশিন দিয়ে রোগীর হাত স্ক্যান করে হার্টের সমস্যা, রক্তশূন্যতা ও গ্যাসের সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেন।
পরবর্তীতে তিনি রোগীকে কিছু হোমিওপ্যাথিক ওষুধ প্রেসক্রিপশন করেন।
বাদীর দাবি, কথিত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ সেবনের পর রোগীর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে গত ২২ মে ২০২৬ তারিখে তাকে পুনরায় ওই চেম্বারে নেওয়া হয়। তখন অভিযুক্ত চিকিৎসক রাজু রোগীকে দেখে আবারও আগের ওষুধগুলোই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিন্তু ওষুধ সেবনের কয়েকদিন পর রোগীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে এবং তার গলা ও প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
গত ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে মুমূর্ষু অবস্থায় রিনা আক্তারকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।
সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক আগেই গর্ভের সন্তানটি পেটের ভেতরেই পচে গলে নষ্ট হয়ে গেছে। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বর্তমানে রিনা আক্তার অত্যন্ত গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, অভিযুক্ত মোাঃ হাসানুল করিম রাজুর অপচিকিৎসা ও ভুল প্রেসক্রিপশনের কারণেই তাদের অনাগত সন্তানটি পেটের ভেতর মারা গেছে এবং মায়ের জীবন এখন সংকটাপন্ন। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
গাজীপুর সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।