
শ্বশুর বাড়ি থেকে নববধুকে অপহরণের চেষ্টা আহত-৪
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় শ্বশুর বাড়ি থেকে নববধুকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিন। সে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বসুয়ারা গ্রামের কুব্বাস মিয়ার ছেলে।
গত দুই দিন বসুয়ারা ও পাশ্কাববর্তী শিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নববধু, তাঁর শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও দেবরসহ চারজন আহত হয়েছে। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিন একই গ্রামের কাতার প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ইসরাত জাহানকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কিছুতেই পাত্তা দেয়নি ইসরাত জাহান। এরই মধ্যে ইসরাত জাহানের সাথে কাশিনগর ইউনিয়নের কাতালিয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির সাকিব হোসেনের বিয়ে ঠিক হয়।
এ খবর শুনে আল আমিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন কিশোর গ্যাং সদস্য শুক্রবার রাতে মোটর সাইকেল ও হাইয়েস মাইক্রোস যোগে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ইসরাত জাহানকে বাড়ি থেকে উঠিয়ে নেয়ার জন্য হামলা চালায়।
এলাকাবাসী টের পেয়ে ধাওয়া করলে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা একটি মোটর সাইকেল ও দেশীয় কিছু অস্ত্র রেখে পালিয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ^শুড় বাড়িতে নেয়া হয় ইসরাত জাহানকে।
রোববার রাতে কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিনের নেতৃত্বে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসযোগে ৬-৭ জন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা কাতালিয়া গ্রামে ইসরাত জাহানের শ্বশুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ইসরাত জাহান, তাঁর শ্বশুর মাঈন উদ্দিন, শাশুড়ি নুরজাহান বেগম ও দেবর মোঃ সায়মনকে আহত করে।
এর মধ্যে সায়মনের মাথায় ১৫টিরও বেশি সেলাই লেগেছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার আশঙ্কায় সোমবার দাখিল পরীক্ষা দিতে পারেনি ইসরাত জাহান।
অপরদিকে ইসরাত জাহানকে অপহরণ করতে না পেরে সোমবার সকালে তার ছোট বোন খাদিজা আক্তারকে গোপালনগর মহিলা মাদরাসার সামনে থেকে অপহরণের চেষ্টা চালায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।
তাৎক্ষনিক খাদিজার চিৎকার শুনে মাদরাসার শিক্ষক, ছাত্রী ও আশ-পাশের দোকানে থাকা মানুষ বেরিয়ে আসলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কিশোর গ্যাং লিডার আল আমিনসহ তার কয়েকজন সহযোগিকে এলাকাবাসী মাদকসহ আটক করে সামাজিকভাবে বৈঠক করে। তারা ভালো হয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সম্প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে বসুয়ারা ও কাতালিয়া গ্রামের সচেতন মহল।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন সোমবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আটক করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে’।