
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিশ্চিন্তপুরে ফুটওভার ব্রিজের দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
সৌরভ মাহমুদ হারুন, বুড়িচং
কুমিল্লার ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট নিশ্চিন্তপুর (নামার বাজার) এলাকায় দীর্ঘদিনের জনদাবি—একটি ফুটওভার ব্রিজ।
প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার করায় এবার ক্ষোভ ও উদ্বেগ নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন স্থানীয়রা।
ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি রূপ নেয় গণদাবিতে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া মানুষের একটাই কণ্ঠ—“আর নয় ঝুঁকি, চাই নিরাপদ পারাপার।”
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের উভয় পাশে রয়েছে কুমিল্লা সেনানিবাস।
এর আশপাশে মাত্র ১শ গজের মধ্যে রয়েছে ১০ থেকে ১২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
ফলে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করছেন। দ্রুতগতির যানবাহনের চাপ ও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ।
কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ সালাহ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন,“এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ সড়ক পারাপার করেন। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ফুটওভার ব্রিজ এখন সময়ের অনিবার্য দাবি।”
আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফেরদৌসী আক্তার বিথী বলেন,“আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে রাস্তা পার হয়। আমরা আর কোনো দুর্ঘটনা দেখতে চাই না। দ্রুত একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া অভিভাবক ও স্থানীয়রা জানান, অতীতে একাধিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও এখনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তারা দ্রুত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ কর্মসূচিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, সাজ্জাদ সাজু, কামরুল হাসান, নুরুল হক ও কাজী মাসুমসহ পাঠশালা কলেজ, কুমিল্লা পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আসলাম খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, গ্রীন বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল অংশ নেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি—“প্রাণহানির আগে নয়, এখনই চাই ফুটওভার ব্রিজ।”