
কুমিল্লার আদর্শ সদরে সরকারি রাস্তা নির্মাণে বাধা-ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ৪নং আমড়াতলী ইউনিয়নের রসুলপুর উত্তর পাড়ায় একটি সরকারি রাস্তা নির্মাণ কাজে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত বাধার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো মানুষ। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে দরপত্র আহ্বান করা হলেও মামলার অজুহাতে থমকে আছে উন্নয়ন কাজ। ফলে অসুস্থ রোগী হাসপাতালে নেওয়া কিংবা মরদেহ দাফনের মতো জরুরি কাজেও অবর্ণনীয় কষ্টের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমড়াতলী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের (উত্তর পাড়া) সুরুজ মিয়ার বাড়ি থেকে হেলেনা বেগমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে দরপত্র (নং-৭৮৯৮৮১) আহ্বান করা হয়। কিন্তু রাস্তার পাশের এক জমির মালিক ‘প্রতিহিংসার বশবর্তী’ হয়ে কিছু লোকের সহায়তায় আদালতে মামলা ঠুকে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, মামলা চললেও এখন পর্যন্ত আদালত কাজ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি।
উল্টো দিকে, রাস্তার দক্ষিণ প্রান্তে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি পাকা কালভার্ট থাকলেও প্রভাবশালী এক চক্র সরকারি খাল দখল করে রাস্তার স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার আব্দুল মালেক আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু আজ নিজ গ্রামে এই রাস্তা দিয়ে আমার লাশটা বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে আমি শঙ্কিত। মরার আগে আমি এই রাস্তাটি দেখে যেতে চাই।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় কাদা আর খানাখন্দে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবর জানান, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১০ জনকে বিবাদী করে মামলা করায় কাজ ঝুলে আছে। তিনি বলেন, “সরকারি নিয়ম মেনেই টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে আছে।”
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম বাদী শরিফুল ইসলাম জাবেদ দাবি করেন, “রাস্তার টেন্ডার হলেও সেটি আমাদের ব্যক্তিগত জায়গার ওপর দিয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।”
বর্তমানে সংকীর্ণ ও জরাজীর্ণ এই পথ দিয়ে মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা জানাজার খাটিয়া বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনস্বার্থ বিবেচনা করে দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন রসুলপুর ও জরিনানগর গ্রামের বাসিন্দারা। তারা মনে করেন, প্রশাসনিক উদ্যোগই পারে এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি থেকে তাদের মুক্তি দিতে।