
লালবাগে গলায় ফাঁস দিয়ে
গৃহবধুর আত্মহত্যা !
মোঃ শহীদ মিয়া, লালবাগঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় নিজ বাসা থেকে তৌহিদা হোসেন তিশা (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
বুধবার( ৯ সেপ্টেম্বর) লালবা গের ৩০/২ বি এস দাস স্টেষ্ট গোড়-এ শহীদ মাজার গলির মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসার ৫ তলার একটি কক্ষ থেকে ফেনের সঙ্গে গলার রশি পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
মৃতার ভাই রাজিব অভিযোগ করে বলেন, এটা ফাঁসি হতে পারেনা। আমার বোনকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এটা আত্মহত্যা নয়। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে লালবাগ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, আজ দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে আমার বোনের শাশুড়ি আমাকে মুঠো ফোনে জানান। তোমার বোন হঠাৎ অসুস্থ পড়েছে একটু বাসায় আসো পরে আমরা দ্রুত বোনের বাসায় যাই। সেখানে গিয়ে দেখতে পাই আমার বোন সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আছে। তার এক পা বিছানায় হাঁটুগাড়া অবস্থায় ছিল, আরেক পা মেঝের থেকে ৪ ইঞ্চি উপরে।
পরে ৯৯৯ এ ফোনে লালবাগ থানা পুলিশকে খবর দিলে লালবাগ থানা পুলিশ এসে আমার বোনের মরদেহটি উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল জরুরী বিভাগের মর্গে নিয়ে এলে চিকিৎসক বিকেল সারে ৫ টার দিকে আমার বোনকে মৃত্যু বলে জানান।
স্বজনেরা জানান,তিশাকে তার শাশুড়ি দ্বারা অনেক নির্যাতন সহ্য করেছে। তার শাশুড়ি ও তাকে মানষিক ভাবে নির্যাতন করতো। আজ সকালেও তাদের মধ্যে অনেক ঝগড়া ঝাটি হয়েছে বলে তারা জানান।
মৃতার বাসা পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের ধোলাইখাল জোরপুল এলাকায়। নিহত দুই সন্তানের জননী ছিলেন তিনি।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এস আই) বেলায়েত হোসাইন জানান, জরুরী সেবা নম্বর ৯৯৯ মাধ্যমে নিহতের ভাবি হুমায়রা আমাদের খবরটি দেন। খবরটি পেয়ে আমরা দুপুর ২ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করি।
মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে ঢাকা মেডিকেল নিয়ে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে জানান। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।