
বিদ্যালয়ের ফ্লোর ধ্বসে শিক্ষকসহ
৫ শিক্ষার্থী আহত
মোঃ আশিকুর রহমান, হবিগঞ্জঃ
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর ধসে পড়ে শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
এই ঘটনাটি ঘটে উপজেলার ২নং বদলপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ফ্লোরের একটি অংশ প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুরে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলছিল।
একপর্যায়ে এক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের ফ্লোরে ফাটল দেখা দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষককে জানায়। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ ফ্লোরের একটি অংশ ধসে পড়ে।
এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী নিচে পড়ে গিয়ে আহত হয়। তাদের সঙ্গে শিক্ষক রুমা আক্তারও নিচে পড়ে আঘাত পান।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতরা হলেন: রফিক মিয়ার ছেলে রাহিম বাদশা, আবু ছালেক মিয়ার ছেলে আব্দুল মান্নান মিয়া, ছাদেক মিয়ার ছেলে মোজাক্কির মিয়া, রফিক মিয়ার ছেলে আজিনুর মিয়া এবং আরও এক শিক্ষার্থী।
এছাড়া শিক্ষক রুমা আক্তারও আহত হয়েছেন।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সবুতর নেসা বলেন, “চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ফ্লোর প্রায় চার ফুট নিচে ধসে পড়ে।
ফ্লোরের নিচে পর্যাপ্ত মাটি না থাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আমার বিদ্যালয়ের প্রায় সবকটি রুমেরই একই অবস্থা। বিদ্যালয়টি সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “ফ্লোর ধসে পড়ার পর অভিভাবকরা আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেছেন।
আগামীকাল থেকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে কি না, তা নিয়েও আমরা আতঙ্কে আছি।” শিক্ষক রুমা আক্তার বলেন, “দুপুর ১টার দিকে ক্লাস চলছিল। এক শিক্ষার্থী ফ্লোরে ফাটল দেখা যাওয়ার কথা জানানোর কিছুক্ষণ পরই ফ্লোরের একটি অংশ ধসে পড়ে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমিও নিচে পড়ে গিয়ে কিছুটা আহত হয়েছি।
ঘটনাটি খুবই আতঙ্কের ছিল।” ফ্লোর ধসে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।এবং অনেক অভিভাবক বিদ্যালয়ে এসে সন্তানদের বাড়িতে নিয়ে যান।
অভিভাবকদের আশঙ্কা, ভবনের প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করে সেখানে আবারও পাঠদান শুরু করা হলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জসিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি আমি অবগত আছি। আহত শিক্ষার্থীদের আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমি শিক্ষা অফিসার ও এলজিইডির একজন কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তারা সরেজমিনে পরিদর্শন করে রিপোর্ট দেবেন। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”