ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালেন ইসরাইলপন্থি জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক জাতীয় সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ালেন

ইসরাইলপন্থি জেলেনস্কি

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, হামলায় তাদের একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার পর তেহরান ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাস্পিয়ান সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে।

তেহরানের দাবি, এই ঘটনা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে আরো বিস্তৃত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে এবং ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি জাহাজটির নাম প্রকাশ করেননি।

জেলেনস্কি আরো অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানকে উপসাগরীয় অঞ্চল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সম্পর্কিত স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে, যা পরবর্তীতে ইরানের সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ইউক্রেন এসব তথ্য তাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গেও ভাগাভাগি করবে।

২০২২ সালে রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহের পর থেকেই তেহরান ও কিয়েভের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের দাবি, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ৪৪ হাজারেরও বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর ইউক্রেন উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তাও প্রদান করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কাস্পিয়ান সাগরকে ইরানের তুলনামূলক নিরাপদ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার পর সেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমানে দক্ষিণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার কারণে ইরান ইতোমধ্যেই চাপে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কাস্পিয়ান সাগরেও যদি ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে দেশটির বাণিজ্য, জ্বালানি রপ্তানি এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আরো বড় চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দেয়নি ইরান। তবে দেশটির বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ইউক্রেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যেই রয়েছে। ফলে তেহরান চাইলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা আর না বাড়াতে বিভিন্ন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অন্তত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে, যাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়।


শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *