জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে বিদ্যালয় সভাপতি পদ নিয়ে তোলপাড়

আইন আদালত কুমিল্লা চট্টগ্রাম জাতীয় রাজনীতি শিক্ষা সারাদেশ
শেয়ার করুন....,

জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির অভিযোগে

বিদ্যালয় সভাপতি পদ নিয়ে তোলপাড়

সৌরভ মাহমুদ হারুন, কুমিল্লাঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পৌরসভার ১৪ নম্বর জগতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচনে জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জগতপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সোহেল রানা খোকন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কোনো সন্তান না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিজেকে অভিভাবক হিসেবে দেখিয়ে সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন।
এ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানো ও বিভিন্ন অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে হলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অভিভাবক হওয়া বাধ্যতামূলক।
বুড়িচং পৌরসভার শিক্ষার্থী ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ন্যূনতম ৫ বছর, প্রথম শ্রেণিতে ৬ বছর, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৭ বছর, তৃতীয় শ্রেণিতে ৮ বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে ৯ বছর এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ১০ বছর হতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, অনুসন্ধানে জানা গেছে মো. সোহেল রানা খোকনের পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী কোনো সন্তান নেই।
এছাড়া ম্যারেজ রেজিস্টারের তথ্য অনুযায়ী, তার বিয়ে সম্পন্ন হয় ১৩ মার্চ ২০২২ সালে। এসব তথ্যের সঙ্গে সভাপতির যোগ্যতার বিষয়টি সাংঘর্ষিক হওয়ায় এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাছুমা আক্তারের সহযোগিতায় এ অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। যদিও এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অপসারণ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাছুমা আক্তার বলেন মোঃ সোহেল রানা খোকন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। ওনার একজন সন্তান রয়েছে তাকে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করিয়েছে তার নাম লামিয়া সে পড়া শুনা করছে। এর বাহিরে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি ব্যতিত কিছু দিতে পারব না।
অভিযুক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ সোহেল রানা খোকনের মোবাইল নম্বরের বার বার যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা  মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে অভিযোগ পেয়েছি এটা আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

শেয়ার করুন....,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *